Thursday , October 18 2018
Home / নির্বাচিত সংবাদ / নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জীবনদশা

নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জীবনদশা

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: ২৭৪ – সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের উপকণ্ঠে মাছিমদিয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। জীবদ্দশায় শিশুদের সৃজনশীলতা, সুপ্ত প্রতিভা এবং মানসিক বিকাশ সাধনে বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠান গড়ে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের স্মৃতিতে ২০০৩ সালে নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরে গড়ে তোলা হয় ‘এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহ শালা’

বিস্তারিত আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে,২০০৬ সালে দর্শনার্থীদের জন্য স্মৃতি সংগ্রহ শালাটি খুলে দেয়া হলেও সম্প্রতি লোকবল সংকটের কারণে সার্বণিক খুলে রাখা যাচ্ছে না এটি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসএম সুলতান স্মৃতিসং গ্রহশালার সামনে টাঙানো একটি বোর্ডে লেখা রয়েছে, ছয়দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা ও বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য সংগ্রহ শালাটি খোলা থাকবে।

কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সবসময় খোলা রাখা যাচ্ছে না এটি। এছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ‘এসএম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা’ আর্ট গ্যালারির মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ওই করে আইপিএস যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে এসএম সুলতানের চিত্রকর্ম দেখতে পারেন না দর্শনার্থীরা। সূত্র জানায়, ‘এসএম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহ শালা’টি দেখভালের জন্যে ২০০৬ সালে চুক্তি ভিত্তিক ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র তিনজন কর্মচারী। ওই সংগ্রহ শালার কর্মচারী গোলাপ কাজী বলেন, শুরুর দিকে এখানে মালী হিসেবে আমি যোগদান করি। কিন্তু বর্তমানে গার্ড ও ঝাড়ুদারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়া মূল গ্যালারির চাবি থাকে আমার কাছে।

তাই অনেক সময় দর্শনার্থীরা এলে মূল গেটে চাবি দিয়ে তাদের গ্যালারি ঘুরে দেখাতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা ও বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংগ্রহশালাটি খোলা রাখার কথা থাকলেও লোকবল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারও এটি বন্ধ থাকে। কিন্তু ওই দিন যদি স্মৃতি সংগ্রহশালাটি খোলা রাখা হতো, তাহলে আরো অনেক দর্শনার্থী এখানে আসতে পারতেন। সদরের মহিষখোলা গ্রামের বাসিন্দা পান্থ বিশ্বাস জানান, লোকবলের অভাবে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা প্রায়ই বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক দর্শক এখানে এলেও তাদের জন্য বিশ্রামের কোনো স্থান নেই। এছাড়া সংগ্রহশালায় রাখা সুলতানের ছবি ও ব্যবহূত বিভিন্ন জিনিসপত্র সংরণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তপে কামনা করেন তিনি।এসব সমস্যার বিষয়ে এসএম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালার সহকারী কিউরেটর বলেন, ‘সারা বছরই সংগ্রহশালায় দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে এ চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।

স্মৃতিসংগ্রহশালটি দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সংগ্রহশালাটি সব সময়ই খোলা থাকে। কিন্তু দর্শনার্থীরা যখন আসেন তখন তাদের গ্যালারি ঘুরে দেখানোর জন্য মূল ফটকে তালা দিতে হয়। বাইরে থেকে তালা দেয়া থাকলেও ভেতরে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলে। সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নড়াইল জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, জনবল ঘাটতির বিষয়টি পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। এছাড়া সুলতানের চিত্রকর্মগুলো সংরণে বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। উলেখ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গুণী এ শিল্পী। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন এসএম সুলতান। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার,নিউইয়র্কের বায়ো গ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

About banglamail

Check Also

জামায়াতকে সাথে নিয়েই বৃহত্তর ঐক্য গড়তে একমত ২০-দলীয় জোট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে …