জনগণের সাড়া নেই, আ.লীগের সমাবেশে আসতে ফের চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি!

১৯৭১ সালের ৭ মার্চে তৎকালীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে ইউনেসকো তাদের ঐতিহ্যের রেকর্ডে অন্তর্ভূক্ত করেছে। এটা অবশ্য দেশের একটা খুশির খবর। কিন্তু এই ভাষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অতি বাড়াবাড়ির কারণে বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে বিএনপি। সরকারের শত বাধা বিপত্তির পরও দুপুরের মধ্যেই সোহরার্দী উদ্যান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এত নিপীড়ন আর চাপে থেকেও সমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।

পাল্টা সমাবেশ করার মতো কোনো ইস্যু না থাকায় সরকার ৭ মার্চের ভাষণ উদযাপনের নামে দলীয় বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে ১৮ নভেম্বর নাগরিক কমিটির ব্যানারে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করে। ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে সমাবেশ সফল করার জন্য রাজধানীসহ আশপাশের প্রতিটি জেলা, থানা ও ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভা করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বেশ কয়েকটি থানায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।

এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য রাজধানীর সকল স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস ও সব ব্যাংকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সমাবেশে উপস্থিত না হলে শাস্তি প্রদানেরও হুমকি দেয়া হয়।

সরকারের টার্গেট ছিল বড় ধরণের শোডাউনের মাধ্যমে বিএনপিকে জবাব দেয়া। যদিও ওবায়দুল কাদের বার বার অস্বীকার করেছেন যে, এটা কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক সমাবেশ না। এটা নাগরিক কমিটির সমাবেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাবেশের একদিন আগে সরকার গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারে যে সমাবেশে ব্যাপক লোক উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তখনই সরকার মাঠে চেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই আলোকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সারিবদ্ধভাবে চেয়ার দেয়া হয়। যাতে কম লোকে মাঠ ভরা দেখা যায়। কিন্তু সমাবেশের দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক চেয়ার খালি ছিল। এমনকি সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন বিটিভির ফুটেজেও এ চিত্র দেখা গেছে। বিএনপিকে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ইজ্জত যায় যায় অবস্থা।

জানা গেছে, সমাবেশে উপস্থিত কম হওয়ায় খোদ প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

এদিকে, আগামী ২৫ নভেম্বর আবারো আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে সরকার। ওই শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সমাবেশে আসা বাধ্যতামূলক করে চিঠি দেয়ায় এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ মানুষ বলছেন, গুম-হত্যা, খুন, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে আওয়ামী লীগ এখন গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা বুঝতে পেরেছে যে দলীয় কোনো সভা-সমাবেশে সাধারণ মানুষ আসবে না। দলীয় সভা-সমাবেশকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নাম দিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদেরকে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, সাধারণ মানুষতো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের সভা-সমাবেশে এখন নিজ দলের নেতাকর্মীরা আসতে চায় না। সরকারি চাকরিজীবি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরকে আসতে বাধ্য না করলে আওয়ামী লীগের ডাকা সমাবেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অর্ধেকও ভরবে না।

analysisbd

Comments Us On Facebook: