মন্ত্রী যাঁরা আমাদের অনুরোধ করেন, আমরা সেভাবে চাকুরি ও নিয়োগ দিয়ে থাকি – শাজাহান খান !

চট্টগ্রাম বন্দরে ‘লস্কর’ পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও অনুরোধে অনেকের চাকরি হওয়ার কথা স্বীকার করলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। মন্ত্রী ও সাংসদদের অনুরোধে চাকরি হওয়ার উদাহরণও দেন তিনি। ‘লস্কর’ পদে অনিয়ম নিয়ে গত রোববার সংসদে দেওয়া দুই সাংসদের তথ্য অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গতকাল সোমবার ৩০০ বিধিতে (স্পিকারের অনুমতি নিয়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীর বিবৃতি) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিধান ও কোটা অনুসরণ করে ‘লস্কর’ পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাসদের সাংসদ মইন উদ্দীন খান বাদল এবং জাতীয় পার্টির সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদকে তাঁদের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেন তিনি। গত রোববার ওই দুই সাংসদ ‘লস্কর’ পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের রশি বাঁধা ও পাহারা দেওয়ায় নিয়োজিত কর্মী ‘লস্কর’ নামে পরিচিত। সরকারি বেতন স্কেলে তাঁরা সর্বনিম্ন ধাপের (২০তম গ্রেড) কর্মী। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবেও তাঁরা পরিচিত। লস্কর পদে নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা হয় না। এই নিয়োগে অনিয়ম এবং চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দাদের বঞ্চিত করে নৌমন্ত্রীর নিজ জেলা মাদারীপুরের মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার মন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের সময় বন্দর এলাকায় একটি সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকালও চট্টগ্রামের বন্দর ভবনের সামনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘আমরা চট্টলবাসী’ ব্যানারে মানববন্ধন করে এক সপ্তাহের মধ্যে লস্কর পদে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান।
মইন উদ্দীন খান সংসদে অভিযোগ করেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে লস্করের পদে ৯২ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ২ জন চট্টগ্রামের, আর ৯০ জন অন্য একটি জেলার। নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে বক্তব্য দেন সাংসদ জিয়াউদ্দিনও।

গতকাল এ বিষয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, ৯২ জন নয়, লস্করের চাকরি দেওয়া হয়েছে ৮৫ জনকে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ২৩ জন, কক্সবাজারের ৪ জন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ২ জন। এ ছাড়া নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ চাকরি পেয়েছেন। তবে মন্ত্রী তাঁর নিজ জেলা মাদারীপুর থেকে কতজন নিয়োগ পেয়েছেন, সে তথ্য উল্লেখ করেননি।

শাজাহান খান বলেন, ‘এখানে যেহেতু শুধু মৌখিক পরীক্ষা হয়, সেহেতু অনেক সাংসদ, মন্ত্রী যাঁরা আমাদের অনুরোধ করেন, আমরা সেভাবে দিয়ে থাকি।’ তিনি জাসদের যে সাংসদ অভিযোগটি করেছেন, তাঁর অনুরোধেও একজনকে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদেরও একটা অনুরোধ রাখা হয়েছে।

Comments Us On Facebook: