যাদের আত্মসম্মানবোধ নেই তাদের মুখে চেতনা মানায় না

আশরাফুল ইসলাম

যেকোন বিষয়ে গভীর শ্রদ্ধাবোধের অনুভুতিই সেই বিষয়ে চেতনার মূল উৎস। বিষয় বিবেচনায় চেতনা ব্যক্তিগত, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্থান পায়। চেতনার সাথে আত্মসম্মানবোধ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের আত্মসম্মানবোধ নেই সেই ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের মুখে চেতনা শব্দটি নিতান্তই বেমানান।

আমাদের দেশের একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও তথাকথিত সুশীল সমাজ কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনার ফেরি করে বেড়ায়। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে বলা যায় এদের মধ্যে ক্ষমতা আর অর্থবিত্তের লোভ ছাড়া বিন্দুমাত্র আত্মসম্মানবোধ নেই। রাস্তার অনেক ফকিরেরও আত্মসম্মানবোধ আছে। তার কুঁড়ে ঘরের সীমানায় গিয়ে তাকে অপমান করলে তারও আত্মসম্মানে বাধে – প্রতিবাদ করে – অন্তত এটুকু বলে প্রতিবাদ করে যে ‘ফকির বলে কি আমার মান-সম্মান নেই?’।

নীচের প্রত্যেকটি নিউজ পড়েন এর পর গভীরভাবে চিন্তা করেন। আমরা কি একটিরও উওযুক্ত প্রতিবাদ করতে পেরেছি?

পারি নাই কারণ আমাদের আত্মসম্মানবোধ নাই। ভারত সীমান্তে আমাদেরকে হত্যা করে কাঁটা তারে লাশ ঝুলিয়ে লিয়ে রাখে – ভারতের বিএসএফ প্রতিনিয়ত আমাদের জল-সীমায় ঢুকে আমাদের জেলেদেরকে মারধোর করে – ভারতীয় জেলেরা প্রতিনিয়ত আমাদের জল-সীমায় ঢুকে মাছ শিকার করে নিয়ে যায় – গত মাসে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ কালীন সাময়েও তারা আমাদের জলসীমায় অবাধে ঢুকে ইলিশ ধরেছে – আমাদের আত্মসম্মানে বাধে নাই তাই প্রতিবাদ করতে পারি নাই।

মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ আমাদের আমাদের রাষ্ট্রীয় সীমানায় ঢুকে আমাদের জেলেদের মেরে তাদের ট্রলার নিয়ে যায় – আমাদের আত্মসম্মানে বাধে নাই তাই আমরা উপযুক্ত প্রতিবাদ করতে পারি নাই।

https://goo.gl/h5haBM

সর্বোপরি আজ দেখলাম বাংলাদেশে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে তিন বিজিবি সদস্যকে আহত করল ভারতীয় বিএসএফ – এর পরও আমাদের আত্মসম্মানে বাধে নাই তাই আমরা প্রতিবাদ করিনি।

https://goo.gl/8tQg7V

ভারতের হিন্দুত্ববাদের চেতনাকেও আমরা লালন করছি। নিশ্চয় ভারতের চাপে সরকার রাজী হয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুদের ক্ষতিপূরণ দিতে। যদিও আমাদের মিডিয়ায় এসব খবর আসে নাই। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইট বার্তায় এটা প্রচার করেছেন। এই টুইট বার্তারও হয়তো একটা উদ্দেশ্য আছে। উনি যে বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদীতা সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন তারও একটা প্রচার হতে পারে।

https://goo.gl/FxwKUu

হিন্দুত্ববাদী কথাটা বলায় রাগ করবেন না। কারণ ভারতের মোদী সরকার যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার এটা ইতোপূর্বে অনেক গবেষণা ও মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।

ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানবতা বিরোধী যেকোন কাজই গর্হিত কাজ। এবং বর্বর প্রকৃতির মানুষরুপী জানোয়াররা এসব কাজ করে থাকে। সুষমা স্বরাজ যদি মানবতাবাদী হতেন এবং মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে এটা বলতেন তাহলে উনার দেশে যে গরুনীতি নিয়ে প্রতিনিয়ত মুসলামান নির্যাতিত হচ্ছে, খুন হচ্ছে এবং মুসলমানদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে – কই আজ পর্যন্ততো একটা প্রতিবাদ তিনি করেন নি! আজ পর্যন্ত কোন ক্ষতিগ্রস্থ মুসলানকে ক্ষতিপূরনের কথা বলেন নি! বরং বিধান সভায় বসে গরুনীতিকে এমনভাবে আধুনিকায়ন করছেন যাতে আইনানুগভাবেই মুসলামদেরকে গরুর ইস্যু নিয়ে নির্যাতন, ধর্ষণ ও খুন করা যায়; তাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেওয়া যায়। সুষমাদের জাতীয় এবং ধর্মীয় চেতনা উভয়ই প্রবল বলে তারা আমদের সাথে ধর্মীয় চেতনার রাজনীতিও করছে অবলীলায়।

ভারতে আরও এক ব্যক্তিকে ‘হত্যা’ করেছে গোরক্ষকরা

https://goo.gl/2JdbmF

কিন্তু যাদের সত্যিকারের চেতনা ও আত্মসম্মানবোধ আছে তারা ঠিকই নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। আজ পর্যন্ত কি ভারতের বিএসএফ তাদের পাকিস্তান সীমান্তে কোন পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যা করছে? না সে সাহস করে নাই। আজ পর্যন্ত কি ভারতের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রত্যক্ষা বা পরোক্ষভাবে বলতে পেরেছে? পারে নাই। কারণ ভারত জানে পাকিস্তানের চেতনা তাদের বুকের গভীরে – ভারতের পদতলে জিম্মি নয় তাই পাকিস্তান সাথে সাথে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।

আজ দেখলাম পাকিস্তানের সীমানায় ঢুকে মাছ শিকার করায় ৫৫ ভারতীয় জেলেকে  গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়েছে পাকিস্তান। কই এই নিয়ে সুষমা স্বরাজের কোন টুইট বার্তাতো দেখলাম না!!

https://goo.gl/NHWCR3

আর আমরা ক্ষমতার লোভে আমাদের সব চেতনা সুষমা স্বরাজ ও প্রণব মুখার্জির মত ভারতীয় নেতাদের পদতলে বিসর্জন দিয়েছি। না অবাক হবার কিছু নেই – প্রণব মুখার্জি নিজেই উনার বইয়ে লিখেছেন বাংলাদেশের কোন নেতা ভারতের গিয়ে উনার পায়ে ধরে কেঁদেছে!! বাংলাদেশের মিডিয়াও এই পায়ে ধরে কান্নাকাটি এবং মঈন উদ্দিন কে সেনা প্রধান রাখার শর্তে ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে প্রণব মুখার্জির লিখা নিয়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। কই কেউতো উনার লিখাকে চ্যালেঞ্জ করে নাই!! কারণ সত্যকে মিথ্য বলে চ্যালেঞ্জ করা মোটেই সম্ভব নয়। যাদের নূন্যতম আত্মসম্মানবোধ আছে তারা কি ক্ষমতার জন্য কারো পায়ে ধরে কাঁদতে পারে – তাও আবার অন্য দেশের নেতার পায়ে ধরে কান্না??

ক্ষমতার লাভের জন্য ভারতীয় নেতাদের পায়ে ধরে কান্নাকাটির সংস্কৃতি থেকে বেড়িয়ে না আসা পর্যন্ত যেমন আত্নসম্মানবোধ সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না তেমনি কোন চেতনার গলাবাজিও আমাদের জন্য মানানসই হবে না।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী
Comments Us On Facebook: