কারো বাড়িঘর জ্বালাবেন না, কারো ক্ষয়ক্ষতি করবেন না -রংপুরে মুসল্লীদের ইসলামীক নেতারা (ভিডিও)

রংপুরে ঘটে যাওয়া ধর্ম অবমাননার ইস্যুতে মুসল্লীদের দিয়ে প্রতিবাদ করার আগে তাদের নেতারা কি নির্দেশনা দিয়েছিলেন ইসলামীক নেতারা তা ভালো করে একবার শুনুন। তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে- কারো বাড়িঘর জ্বালাবেন না, কারো ক্ষয়ক্ষতি করবেন না, কেউ ভাংচুর করবেন না….

পুরো বক্তব্যটা শুনে যে পাওয়া গেলো তা হলোঃ- এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তাদের আন্দোলন এবং তাদের সর্বোচ্চ কর্মসূচি হচ্ছে-মানব্বন্ধন করে সড়ক অবরোধ করা, যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি পূরণ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখা, কিন্তু কারো কোন ক্ষতি করা ছিলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এখান থেকে তিনটি প্রশ্ন উদয় হয়-

১) আন্দোলনকারীদের প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো কারো বাড়িতে আগুন দেয়া যাবে না।
– তাহলে মুসল্লীরা যদি আগুন না দেয়, তাহলে ইসলাম ধর্ম অবমাননাকারি এইসব হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দিলো কে?

২) প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মুসলমানদের এত কষ্ট হচ্ছে কেন? ধর্ম অবমাননা তো রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এই অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনেরই তো নিজ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার কথা যেহেতু প্রশাসনের অধিকাংশই মুসলিম। কিন্তু এত এত মানুষ আন্দোলন করার পরও কেন প্রশাসন সে দিকে দৃষ্টিপাত করছিলো না?

৩) শাহবাগে দুই-চারটা কথিত মুক্তমনা দাড়ালে ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া ফলাও করে নিউজ করে। কিন্তু এত হাজার হাজার মানুষ ধর্ম অবমাননার শাস্তি চেয়ে আন্দোলন/মানব্বন্ধন করছে সেটা কেন সেইসব মিডিয়ায় নিউজ হলো না? হয়ত বলতে পারেনঃ- ‘সেটা তো অজপাড়া গা। মিডিয়া জানে না।’ কিন্তু কথিত সেই আগুন দেয়ার সাথে সাথে সেই অজপাড়া গায়ে কিভাবে মিডিয়া লাইভ শুরু করলো? সেই অজপাড়াগায়ের উগ্রপন্থী হিন্দুদের বাড়ির আগুন দেয়ার খবর তারা তৎক্ষণাতে পেলো কিভাবে? কিভাবে সেখানে তৎক্ষণাত হাজির হলো?

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর যতদিন না পাবেন, ততদিন মূল রহস্যের সুরাহা কখনই হবে না।

Comments Us On Facebook: