কার দখলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও ১ আসন

জেলা প্রতিনিধি: এবারও নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বেকায়দায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আসনের মোট ভোটারের ২৩ ভাগ সংখ্যালঘু ভোটার কাছে টানতে না পারলে ফের আসনটি হারাতে পারেন বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী।
তবে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল নিয়েছেন তিনি। ১৯৯১ সালে ঠাকুরগাঁও সদর আসনে প্রথম নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে হারেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের একই প্রার্থীর কাছে হারার পর ২০০১ সালে সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন কে হারান তিনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মির্জা ফখরুল রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে আবার হারেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মির্জা ফখরুল যেমন দলের মহাসচিব হিসেবে এলাকায় এগিয়ে রয়েছেন, তেমনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন অনেকাংশে দলীয় কোন্দলের কারণে বিভক্তিতে পড়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। এ আসনের বর্তমান এমপি রমেশ চন্দ্র সেন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেক কুরাইশী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটো, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা, রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরীর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিতে একক প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দল গোছানোর জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাতীয় পার্টি থেকে জেলা সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল, বর্তমান এমপি ও তার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগসহ নানা কারণে আগামী নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। রমেশ চন্দ্র সেন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূল এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন চায়। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্য অভিযোগ করেন, এমপির নিয়োগ বাণিজ্যের টাকার জোগান দিতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে অনেক পরিবারকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের আরেক নেতা বলেন, শহরের ৬৫টি স্কুলে সম্প্রতি তিনজন করে দফতরি নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের কাছের লোকজন।

এ ক্ষেত্রে অনেক পরিবার জায়গা জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তাহমিনা মোল্লার বিরুদ্ধে রমেশ চন্দ্র সেন ভিতরে ভিতরে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। শেষ পর্যন্ত হেরে যান তাহমিনা মোল্লা। জিতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সাল। শুধু তাই নয়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ এমপি রমেশ চন্দ্র সেন অঘোষিতভাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। যে কারণে উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী অরুণাংশু দত্ত টিটো হেরে যান। বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমুর রহমান।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী অরুণাংশু দত্ত টিটো বলেন, ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলের সমর্থনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নিজ দলের কয়েকজন নেতা গোপনে তার বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করায় তিনি হেরে যান। তিনি বলেন, মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব। জানতে চাইলে তৃণমূল কর্মীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচার। তৃণমূলের সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উজ্জ্বল ভাবমূর্তির কারণে সারা দেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, এ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলার সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতা রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী। তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে তিনি ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

Comments Us On Facebook: