মুক্তিযুদ্ধে দেবী থেমিসের কি অবদান ছিলো ? তাহলে দেবি থেমিস মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হ​য় কিভাবে ?

আমরা যে হাহাকার দেখতেছি তা কিসের জন্য? ভাস্কর্য সরানোর জন্য? নাকি হেফাজত দাবি তুলেছিল ভাস্কর্য সরানোর আর সরকার সেই দাবি পূরণ করল সেই কারণে?

সরি টু সে। এই কান্নাকাটি ভাস্কর্যের জন্য না মোটেও। হেফাজতের দাবি সরকার শুনতেছে সেটাই এই কান্নাকাটির কারণ। যারা এখন কান্নাকাটি করতেছে তারা কি এই ভাস্কর্য চেয়েছিল? কেউ কি এই ভাস্কর্য বসানোর জন্য দাবি তুলেছিল? এই ভাস্কর্য কি তাদের মনন বা চিন্তাকে রিপ্রেজেন্ট করে? এর সব উত্তর হচ্ছে না। তাহলে এই ভাস্কর্যের জন্য কান্নাকাটি করছেন কেন? তাদের সাথে এই ভাস্কর্যের সম্পর্ক কোথায়?

আসলে মূল দ্বন্দ্বটা হেফাজতে। হেফাজত এই ভাস্কর্য সরানোর দাবি না তুললে অন্য কোন কারণে (সাপোজ সৌন্দর্যের অভাবে) সরকার যদি এই ভাস্কর্য সরাতো তাহলে কোন কান্নাকাটি আমরা দেখতে পেতাম না। ব্যাপারটা এমন যে হেফাজত যদি সরকারের কাছে রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকা ময়লা সরানোর দাবি করে আর সরকার যদি সেই ময়লা সরায় তাহলেই এরা দেশ গেল দেশ গেল বলে কান্নাকাটি শুরু করবে।

হেফাজত যদি দাবি করে এখন দেশের সব ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলতে হবে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে। হওয়া উচিত। সেটা হেফাজতের দাবির কারণে না। বরং দেশের অন্য সকল ভাস্কর্যের প্রয়োজনীয়তার কারণে। সেটা হেফাজত দাবি না তুললেও, সরকার নিজেই উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজ করলেও।

আমাদের এই কান্নাকাটি সমাজ চিন্তাশীল হলে ভাস্কর্য সরানোর দাবি এদেরই তুলবার কথা ছিল। কোন দেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে সেই দেশের ঐতিহ্যের সাথে অদ্ভুত সম্পর্কের ভাস্কর্য কি আসলেই থাকার উপযুক্ত? এই ভাস্কর্য আমরা কেন রাখব? আশ্চর্যজনকভাবে তার কোন উত্তর এদের কাছে নেই। হেফাজতই এখানে মূল কারণ। এটা ভাস্কর্য সরানোর বা ভাস্কর্য বিষয়ক দ্বন্দ্ব নয়। এটা হেফাজত বিদ্বেষ।

Comments Us On Facebook:

Leave a Reply