Wednesday , September 19 2018
Home / ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে / জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতির কি উপকার হবে ? – নুরুল ইসলাম বুলবুল

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতির কি উপকার হবে ? – নুরুল ইসলাম বুলবুল

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতির জন্য নিম্নোক্ত কাজ গুলো সুচারুভাবে আঞ্জাম দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে।

এক. খোলাফায়ে রাশেদীনের আদলে একটি কল্যাণকর ইনসাফভিত্তিক শির্ক বিদয়াত মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে কাজ করে যাবে।

দুই. সরকারের সব দাফতরিক প্রতিষ্ঠান কুর’আন সুন্নাহর আলোকে এমন ভাবে ঢেলে সাজানো হবে যাতে করে কুর’আন সুন্নাহ সংবিধান দুনিয়ার তাবৎ সংবিধানের উপর শ্রেষ্ঠ ও কল্যাণকর প্রমাণিত হয়।

তিন.দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কুর’আন সুন্নাহর শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে করে জাতি বস্তু তান্ত্রিক শিক্ষায় বিভ্রান্ত না হয়ে আখেরাত ও আল্লাহমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে, যা মানুষ সৃষ্টির একমাত্র কারণ।

চার. দেশের সব মসজিদ মাদ্রাসা গুলোকে জাতীয়করণ করা হবে, যাতে করে আলেম ওলামা হযরত ভিক্ষাবৃত্তির মনোভাব পরিহার করে আত্মসম্মানবোধ ও সাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন।

পাঁচ. দেশের ইসলামী স্কলার ও ওলামা মাশায়েখদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

ছয়. প্রত‍্যেকটি ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার পূর্ণ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে করে দেশের প্রত‍্যেকটি নাগরিক জাতির বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারেন।

সাত. দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে এমন ভাবে ডিজিটাল করা হবে যাতে করে এ জাতির লোকেরা গোটা বিশ্বে আর্থিক সেবা দান করতে পারেন।

আট. দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন মযবুত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে করে জাতি পরনির্ভরশীলতার হাতিয়ারে পরিণত না হয়ে, নিজ মেরুদন্ডের উপর মযবুত ভাবে দাঁড়াতে পারেন।

নয়. নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশ গুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবে।

দশ. দেশের বেকার যুবক, বৃদ্ধ, বিধবা, ইয়াতীম, পঙ্গু, অন্ধ ও অসহায়দের সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

এগারো. দেশের সব নাস্তিকদের কাউন্সিলিং ও নার্সিং করে আস্তিক বানাবার চেষ্টা করা হবে।

বারো. পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ ও জিঘাংসা দূর করে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও সহযোগিতার মেন্টালেটি বা মনো সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে।

তেরো. সংখ্যালঘু ও অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের অন্যান্য নাগরিকদের মতো তাদেরকে ও সকল ধরনের রাষ্ট্রীয় সেবা দিতে জামায়াত অঙ্গীকারবদ্ধ।

চৌদ্দ. বাক স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে জামায়াত কোন হস্তক্ষেপই গ্রহণ করবে না।

পনের. আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও টেকনোলজিকে জামায়াত পুরো পুরি কাজে লাগাবার চেষ্টা চালাবে।

ষৌল. দেশের কৃষি সেক্টরে জামায়াত বিপ্লব সাধনের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।

সতের. গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা ও উগ্রপন্থা দূর করার জন্য জামায়াত সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

মোট কথা জামায়াত একটি আধুনিক শোষন ও বৈষম্যমুক্ত টেঁকসই মূলধারার ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণের মাধ্যমে মানুষের ইহকালিন কল্যান ও পরকালিন মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার, তা-ই করার জামায়াত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্ধুরা, আসুন আমরা সকলেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর হাতকে শক্তিশালী করি! আল্লাহ তৌফিক দান করুন আমীন।

About banglamail

Check Also

জামায়াতে ইসলামী দুইটি ভাগে ভাগ হতে যাচ্ছে ! – মাওলানা মাসউদুর রহমান

বন্ধুরা, শিরোনাম দেখে কেউ আঁতকে উঠতে পারেন সত‍্যিই বুঝি জামায়াত বিভক্ত হতে যাচ্ছেন। না বন্ধুরা, …