Wednesday , October 24 2018
Home / আইন ও বিচার / খালেদা জিয়া কোন পলাতক আসামি নন যে, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে হবে – ডক্টর তুহিন মালিক

খালেদা জিয়া কোন পলাতক আসামি নন যে, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে হবে – ডক্টর তুহিন মালিক

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলা চলবে কিনা, আজ বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্ত দিবে আদালত। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করে বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন ছাড়া এভাবে কারাগারের ভেতরে একজন বন্দির বিচারের ব্যবস্থা করা সংবিধান ও আইন পরিপন্থি। এই আদালত করার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলাপ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তিনি একটি সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই আইনসম্মত আদালত প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অত্র মামলার কার্যক্রম ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্থগিত হওয়া আবশ্যক।”

প্রচলিত আইনের বিধান অনুসারে, কারাগারে থাকা আসামিকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব জেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের। কিন্তু খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা ‘কোরাম নন-জুডিস’ দোষে দুষ্ট বলে গন্য হবে। ‘কোরাম নন-জুডিস’ অবস্থায় বিচারকাজ চালানো যায় না।

খালেদা জিয়া কোন পলাতক আসামি নন যে, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে হবে। তাছাড়া বিতর্কিত আদালতটি নিজেই কারাগারের ভেতর। আদালত ও কারাগার দুটোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। একজন আসামি যখন সাক্ষ্য দেন তখন সকলের সামনেই তাকে সাক্ষ্য দিতে হয়। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি সম্পুর্ন স্বাধীন, সুস্থ ও স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দিবেন। আসামির সাক্ষ্য সত্য না মিথ্যা আইনজীবীরা নির্ধারণ করেন জেরার মাধ্যমে। ফলে আসামির অনুপস্থিতিতে জেরা করাটা অসম্ভব ব্যাপার। এটা বিচারিক সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায় হিসেবে দেখা দিতে পারে।

তাছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৩ ধারায় আসামির আদালতে উপস্থিতিকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংবিধান এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫২ ধারা অনুযায়ী প্রকাশ্য আদালত হতে হবে। আর ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী আসামির উপস্থিতি লাগবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে আসামিকে সুস্থ হতে হবে। এটা ব্যাতিরেকে বিচারকাজ পরিচালনা হবে সম্পুর্ন বেআইনি।

তাছাড়া কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। লিগ্যাল নোটিশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রত্যাহার চাওয়া হয়। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের সাধারণ নিয়মানুসারে বিচারকাজে আসামি এবং আসামি পক্ষের সাক্ষীদের উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হলে সেই বিচার বাতিল এবং এ ধরনের বিচারের ভিত্তিতে কারো কোনো সাজা ঘোষণা করা হলে সেটিও আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য হবে না।

কারণ বিচারিক কাজে কোনো এক পক্ষের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হলে সেই বিচারে মৌলিক গলদ থেকে যেতে পারে। আসামি বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না পেলে তার বিরুদ্ধে অন্যায় সাজা ঘোষণার আশঙ্কা থাকে। এসব কারণে আইনের নিয়মানুসারে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজের কোনো বৈধতা নেই। কারন এটাই আইনি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন করা হলে বিচারকাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

যেখানে বিশেষ জজ আদালতের বৈধতার বিষয়টাই প্রধান বিচারপতির কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে, সে ক্ষেত্রে এটা আবশ্যকীয়ভাবে প্রধান বিচারপতি ও উচ্চ আদালতের (রীট প্রক্রিয়াধীন) সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অন্যথায় জোড়পূর্বক খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা সম্পুর্ন বেআইনী বলে গন্য হবে।

About banglamail

Check Also

বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন, তবে জামিন হ​য় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে !

সালেহা বেগম তাঁর ছেলের বউ রাবেয়া খাতুনকে জড়িয়ে ধরে নির্বাক রইলেন। তখন দুজনের চোখ দিয়ে …