Saturday , October 20 2018
Home / পাঠক কলাম / তার চরিত্রের ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে তা একপ্রকার অপপ্রচার

তার চরিত্রের ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে তা একপ্রকার অপপ্রচার

যখন তিনি ক্রিকেট ছেড়েছিলেন তখন আমরা হয়তো হাফপ্যান্ট পরে দৌড়াদৌড়ি করতে শিখেছি। কিংবা কিংবা বার্থ কন্ট্রোল হাউজের পটকা ফুলাই। ক্রিকেট কি জানতাম না। মামার কাছে শুনেছি ‘৯২ তে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হবার পর ঢাকায় মানুষ মিছিল করেছে। এতটুকু দুরত্ব কেবল রক্তের টানে খুব কাছাকাছি মুসলিমরা। অনেকে যা বামদের ব্যাপারে বলেন মস্কোতে বৃষ্টি হলে ঢাকায় ছাতা ধরেন। তার চেয়েও বেশি। এটা কেবল মস্কোর মতো একটা স্থানে সীমাবদ্ধ নয়।

বিশ্বকাপজয়ী লিজেন্ড হিসেবে একজন সম্মানিত ব্যাক্তি হিসেবে পাকিস্তানে সমাদৃত থাকতে পারতেন। অর্থের জন্যে ক্রিকেট খেলেননি।কারন ক্রিকেট ছিলো তার প্যাশন। অর্থের জন্যে রাজনী্তিও করেননি। কারন ইমরান খান নিয়াজীর রক্ত নীল।পিতা ছিলেন পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। জন্মেছেন প্রভাবশালী পাঠানদের নিয়াজী গোত্রে।

কিন্তু রাজনীতির জন্য তার জীবন থেকে কিছু হারিয়েছে। ৪২ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।বিলিয়নিয়ার কন্যা জেমেইমা গোল্ডস্মিথ তার রাজনীতিক জীবনের উপর ত্যাক্ত বিরক্ত ছিলেন। রাজনীতির জন্য তার পরিবারকে সময় দিতে পারতেন না। বিচ্ছেদে তার পরিনাম। তাহলে বুঝুন কেমন সময় শুরু থেকেই রাজনীতির জন্য কোরবানী দিয়েছেন। পরের বিয়েও টেকেনি রেহাম খানের সাথে। বর্তমানের স্ত্রী স্থিতিশীল।

তার চরিত্রের ব্যাপারে যা বলা হচ্ছে তা একপ্রকার অপপ্রচার। যখন বর্ধমান কোনো মেরুদন্ড আছেন এমন ব্যাক্তিকে বা আদর্শকে দমানো যায়না তখন আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে স্বার্থবাদী চারিত্রিক হামলা করা হয় যাতে জনগন ছিঃ ছিঃ করেন। আয়েশা গুলালি বলেন বা যাই বলেন আমি আপনি হলে আরো কত কি শুনতে হতো। তাকে যারা স্বৈরশাসক এরশাদের পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন তারা যে কেমন হাস্যকর অল্পবুদ্ধির লোক তা বুঝাই যায়। ইমরানের ব্যাক্তিত্ব ও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নাতীত।

পাঠানদের বুদ্ধির লেভেলের ব্যাপারে যা শোনা যায় মোটেই তারা সেরকম নয়। ইমরান তার প্রকৃষ্ট উদাহরন। গ্রাজুয়েশন করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার সাব্জেক্ট ছিলো ফিলসফি,ইকোনমিক্স এন্ড পলিটিক্স। যোগ্যতার প্রমান দিয়ে দশ বছর চ্যান্সেলর হিসেবে ছিলেন বিলেতের ব্রডফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজনীতি করেননি শুধু। জনহিতকর কার্যক্রম চালিয়েছেন বেশ। পাকিস্তানে সর্বপ্রথম স্পেশালাইজড ক্যান্সার হসপিটাল গড়েছেন। ট্রাইবাল এরিয়াগুলোতে হাসপাতাল করেছেন। সেখানেও তার বুদ্ধির প্রমাণ দিয়েছেন। সেখানকার অধিবাসীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ফান্ড ক্রিয়েট করেছেন। চাইলে নিজ পয়সায় বানিয়ে দিতে পারতেন। সেখানে নিজেকে দায়বদ্ধ করেছেন। মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করেছেন। তারাও তার প্রতি কৃতজ্ঞবোধ লালন করেছেন। জামায়াতের দুর্গ খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিজেকে চিনিয়েছেন। যোগ্য ব্যাক্তিকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হয়। সবচেয়ে বড় যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন পিপিপি আর মুসলিম লীগের বাইরে অল্পসময়ে নতুন দল হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠান করেছেন। দুটি দলের বৃত্ত থেকে মানুষকে বাহির করতে পেরেছেন।

পাকিস্তানের প্রতি একটা বড় অভিযোগ সেদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড বৈষম্যমুলক। এলিটদের অঞ্চল পাঞ্জাব লাহোরের দিকেই বেশি যায়। ইমরান এলিটদের হয়ে এখন কি করবেন? অতীত প্রধানমন্ত্রীদের মতো একই কাজ করবেন নাকি সুষম উন্নয়ন করবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো সন্ত্রাসবাদের ভিকটিম পাকিস্তানকে কিভাবে সুরক্ষা দিবেন? তিনি পাকিস্তানের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেন নাকি আরেক এরদোয়ানের মতো বিশ্বনেতা হবেন? ইমরান যে মানসিকতার লোক তাতে তিনি তা অবশ্যই হতে চাইবেন। আবার তিনি সবাইকে হতাশ করতেও পারেন। মনে হচ্ছে একবিংশ শতাব্দী জরাজীর্ণকে ঝেড়ে নতুনভাবে জেগে উঠবে।

Abm Jobaer

About banglamail

Check Also

বাসার ভাড়াটিয়াকে জিম্মি করে তিন কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছেন শেখ রেহানা !

আমরা কেউই শতভাগ ফেরেস্তা না, মানুষ। তাই ভূল করি, পাপ করি! কিন্তু কেউ একজন বলতে …