মূর্তি যখন ইস্যু; বুঝতে হবে কু-রাজনীতি চলছে…

যে দেশে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে মরা হয় এবং পরে ক্রসফায়ার গপ্প এড করা হয়, যে দেশে গুম একটি প্রতিদিনের আতঙ্ক, যে দেশে কথা বলতে হলে জীবন বাজি ধরতে হয়, সেই দেশে একটি পাথরের মূর্তি নিয়ে মাতামাতি করা পরিহাসের বিষয়। বাংলাদেশ কোন ইসলামি প্রজাতন্ত্র না। গণপ্রজাতন্ত্রও মানবেন আবার ‘ইসলামি বিধান’ চাইবেন -এটা হয় না।
অন্য দিকে এই দেশ কোন নট-নটির আখড়া নয় যে পাবলিক ভ্যালুজের সাথে যায় না এমন মূর্তি তৈরি করে প্রগতিশীল হতে হবে। মূর্তিযোদ্ধারা কোন ভাবেই বাংলাদেশের জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই হাইব্রিড সেকুলার-শাহবাগিরা পরাজিত হতে বাধ্য। (এরাই শাহবাগের পরাজিত শক্তি) কিন্তু এরা পরাজিত হয়েও অবৈধ ক্ষমতাকে সুবিধা করে দিবে। মূর্তি ইস্যুটার দিকে তাকালে এবং তাদের অক্ষম আষ্ফালন দেখে এটা পরিস্কার বুঝতে পারা যাচ্ছে। এরা বুঝতে পারে না- পৌত্তলিকতা কোন ভাবেই আমাদের জাতীয় সংষ্কৃতি না। এটার জন্য আন্দোলন করা একধরনের ক্যালকেসিয়ান বাবু-প্রভাবিত বামপন্থি ‘জঙ্গি’পনা। এটা কসাই মোদি ও জঙ্গি সংগঠন আরএসএস এর প্রকল্প। এটা প্রগতীশীলদের বর্বরতা,পশ্চাদপদতা। রাজনৈতিক মূর্খতা থেকে এমন হাকাও জিনিস নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়। অন্যদিকে অবৈধ সরকার এখন বিপদে। জনভিত্তি শূণ্য। তবে..


‘অনুভূতি’ -নিয়ে রাজনীতির বিপদ এবং সুবিধা দুইটাই আছে। কিন্তু এই পাবলিক `অনুভূতিকে’ কাজে লাগিয়ে অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা গেলেও কোন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের তৈরি করা যায় না দীর্ঘ সময়ের জন্য। এমনকি ক্ষমতা নিলেও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে পরে।


মতাদর্শভিত্তিক পজিশন নিয়ে লড়াই করতে না পারলে অনুভূতির রাজনীতি করে বেশি দূর যাওয়া যায় না। এটা বিপদ ডেকে আনে। কোন রাজনৈতিক দলের আত্মপরিচয়ের সংকটকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া চরম হঠকারিতা। আপনারা নিজেদের মতাদর্শ ও অবস্থান পরিস্কার করে পথে নামেন। সুরসুরির রাজনীতি কইরেন না। তাই ফাও ক্যাচলামি বাদ দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্ত করতে হবে এবং পাবলিক যেন নিজেদের মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে তার জন্য নৈতিকভাবে শক্তিশালী রাজনীতির জমিন তৈরি করতে হবে।”

Comments Us On Facebook:

Leave a Reply