আওয়ামী লীগে পদত্যাগের হিড়িকঃ ৩ দফায় ১৭৫ জনের পদত্যাগ

জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়ছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রতিদিন ৫০-৬০টি করে পদত্যাগপত্র স্ব-স্ব সভাপতির কাছে জমা পড়ছে। দলের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমাসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৫২ জন নেতাকর্মী গতকাল সোমবার পদত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।এর আগে প্রথম দফায় ১২ ও দ্বিতীয় দফায় আরো ১১১ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। উপজেলা যুব লীগের নেতা অরবিন্দু চাকমার খুন হওয়ার পর এ নিয়ে তৃতীয় দফায় মোট ১৭৫ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করলেন।শনিবার রাতে জুরাছড়ির নেতাকর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর এক বিবৃতিতে বলেন, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁদের নেতাকর্মীদের হত্যার ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছে। তবে জনসংহতি সমিতি বিষয়টি অস্বীকার করেছে।আমাদের সময় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জবাব দিতে ‘অলআউট ক্যাম্পেইনিং’- এ নামার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।তিনি বলেন, ‘মিডিয়া আমাদের দখলে রাখতে হবে।’সোমবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ পরামর্শ দেন। তিনি মূলত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো প্রচার করতে পরামর্শ দেন।এসময় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘বিএনপিসন্ত্রাসী,দুর্নীতিবাজ,লুটপাটকারীদের দল। খুনিদের আড্ডাখানা এ দলে। এগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।মানুষের মধ্যে এখন মাইন্ডসেট হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকুক। কিন্তু বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষের সেই মাইন্ডসেট ভেঙে দিতে চাচ্ছে।

এটা মোকাবিলায় মিডিয়া আমাদের দখল রাখতে হবে।’ প্রচারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘সরকারে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরতে হবে।আমাদের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা অব্যাহত রাখতে পারলে ভবিষ্যত নির্বাচনে বিএনপি নির্মূল হয়ে যাবে।’প্রচারের কৌশল হিসেবে সামাজিক সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করারও পরামর্শ দিয়েছেন জয়। এছাড়া, গণমাধ্যমে প্রচারের তাগিদ দিয়েছেন।দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে উদ্দেশ করে জয় বলেন, ‘আপনাকে এখন কথাবার্তা কম বলতে দেখা যায় কেন?’

জবাবে হানিফ বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তো কথা বলেন।’ এর জবাবে জয় বলেন, ‘শুধু ওবায়দুল কাদের কথা বললেই হবে না। কেন্দ্রীয় নেতা সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে কথা বলতে হবে।’সভায় বক্তব্য রাখছেন সজীব ওয়াজেদ জয়তিনি বলেন, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে বিএনপিসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তিরা মিডিয়া দখল করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার অব্যাহত রাখে।’
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দলের কোন্দল নির্মূল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের তাগিদ দিয়েছেন জয়। তিনি বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে সর্বস্তরের কোন্দল নিরসন করতে হবে।আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনও শক্তি আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারবে না।’ ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির সব অপকর্মগুলোকে নির্বাচন পর্যন্ত হাইলাইট করার কথাও বলেন তিনি।

রুদ্ধদ্বার সভায় আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিষয়টি তুলে আনলে জয় বলেন, ‘এটা বড় ধরনের একটা ষড়যন্ত্র ছিল, সরকারকে অচল করার মতো।আপনাদের সাহসী পদক্ষেপে এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারায়, আপনাদের ধন্যবাদ।’ সভায় জয় জানান, আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তিনিও প্রচারে নামার ইচ্ছা পোষণ করেন।

সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন দলের ভবিষ্যত নেতা হিসাবে সম্বোধন করলে জয় বলেন, ‘আগে ফিউচার আসুক। ফিউচার আসলে ফিউচারে দেখা যাবে।’সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও যারা মতামত রাখেন তারা হলেন- মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মণি, আব্দুর রহমান, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়াও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

Comments Us On Facebook: