জামায়াত কোন ব্যক্তির দান, ত্যাগ তিতিক্ষার কাহিনী নির্ভর দল নয় !

কারো মৃত্যু দিবস পালন করা জায়েজ কিনা, এই মর্মে যদি ফতোয়া জানতে চান, আপনি নিশ্চিত থাকুন, কওমী এবং জামায়াত শিবির সহ আহলে হকের সকল আলেম ওলামারা এক বাক্যে বলে দেবেন, এগুলো পরিত্যাজ্য। হারাম বলবেন না, তবে নাজায়েজ বলবেন এটা নিশ্চিত। কারণ এগুলো বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে যায় না।

কারণ উম্মাহর ইতিহাসে এমন একটি দিন যায়নি যেদিন এমন কোন গুরুত্ব্যপুর্ণ ঘটনার ঘটেনি, আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে কাউকে জুলুম করে হত্যা করা হয়নি, আল্লাহর কোন প্রিয় বান্দাকে তার মনিব নিজের কাছে ডেনে নেননি।। অথচ দু গ্রুপই আজকে দুজন বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী আল্লাহর বান্দার মৃত্যু দিবসে বিভিন্ন অনুষ্টান পালণ করছে, বিশেষ ভাবে দোয়ার আনুষ্টানিক আয়োজন করছে। কেন করছে আমি জানি না। দিন তারিখ বদল করে কাজটি করলে হয়তো ব্যাপারটি আরো সুন্দর হতো।

ইতিহাসের প্রতিটি পাতার দিন তারিখ নিয়ে আপনি ফিকির করলে এমন সব ঘটনার স্বাক্ষী হয়ে যাবেন যেগুলো আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক। তবুও আমরা সেগুলো নিয়ে প্রতিদিন কোন আলোচনা সভা, দোয়ার আয়োজন করি না। কিন্তু বর্তমান যুগে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় নিয়ে এসব কর্মের স্বাক্ষী আমাদের হতে হচ্ছে। যে কোন ব্যক্তিত্ব্যের জন্য প্রোগ্রাম করা এখন রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ আমরা যে তথাকথিত রাজনীতি করি না, করছিও না, এটা কিন্তু সংবিধানিক ভালে বলা আছে। দলের প্রতিটি কর্ম পরিকল্পনায় ঘোষনা করা আছে।

প্রতিটি কর্মকে শরীয়াতের মানদন্ডে উর্ত্তিণ করার শিক্ষা আমরা সংগঠণ থেকে পাই। প্রায় সময় দেখা যায়, সংগঠনের ভিতরে বাইরেও এমন সব কর্ম কে উস্কে দেওয়া হয় তার মধ্যে জটিল রাজনৈতিক যুক্তি ছাড়া শরীয়াতের কোন সিল পাওয়া যায় না। এগুলো থেকে আমরা সবাই মুক্ত থাকার চেষ্টা করি। আমরা আমাদের বীরদের অসমাপ্ত কাজ অব্যহত রাখতে পারলাম কিনা, তাদের রেখে যাওয়া স্বপ্নগুলো প্রতিনিয়ত লালণ করছি কিনা সেটাই মুখ্য বিষয়। আমি নিশ্চিত, আমাদের এমন কোন প্রোগ্রাম হয় না, এমন কোন দাওয়াতী গ্রুপ, ইউনিট বৈঠক হয় না যেখানে শহীদদের জন্য চোখের পানি ফেলা হচ্ছে না।

তথাপী শরীয়াতের প্রাণসত্বার সাথে সাংঘর্ষিক, আমাদের শহীদদের রেখে যাওয়া চিন্তা চেতনা, শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক কোন কাজ আমরা কিভাবে করতে পারি ? এ শিক্ষা তো তারা আমাদেরকে দেয়নি। শহীদ মতিউর রহমান নিজামী (রহ) স্পষ্ট বলেছিলেন, আমরা আমাদের পুর্ববর্তি নেতাদের জীবনের আক্ষেপ পুরনের চেষ্টা করছি। তারা স্বপ্ন দেখতেন হুকুমাতে ইলাহীয়ার। আমরা তাদের রেখে যাওয়া কাজ চালু রাখাই হতে তাদের জন্য সাদকায়ে জারিয়া।

তাদের মৃত্যু দিবস পালনের কোন কর্মসূচী আমরা নেইনা। জামায়াত এই কাজ করেনি, আর করবেও না। জামায়াত কোন ব্যক্তির দান, ত্যাগ তিতিক্ষার কাহিনী নির্ভর দল নয়। এটি কারো আল্লাহর রাহে ধাবমান একদল লোকের কাফেলা মাত্র। মরহুম আমীরে জামায়াতের সাথে সূর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই, কারো ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করা, তাকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলনের মেরিট তৈরি করা সমূচীন নয়।

আমি আশা করছি, দলের ভিতরে বাইরে ঘোষিত যে কোন কাজকে মিয়ারে হকের মানদন্ডে উত্তির্ণ করেই ঘোষনা করবেন। সংগঠনের মুখলেস নেতৃবৃন্দ এই দিকটি দেখবেন। কারণ আনুগত্যের ভিতরে থেকে শরীয়াতের প্রানসত্বার হেফাজত করার দায়িত্ব্য কিন্তু প্রত্যেক কর্মীর ওপর রয়েছে। এটা ভুলে গেলে চলবে না। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মত বা আমার ইলমের দায়বদ্ধতা থেকে লিখা। যে কোন ব্যক্তি এর সাথে সমান ভঙ্গিতে দ্বীমত রাখতে পারেন। তবে যুক্তি দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে।

Apu Ahmed

Comments Us On Facebook: