নড়াইলে কুমারিমাতার নবজাতককে জোরপূর্বক কেড়ে নেয়ার ঘটনায় থানার ওসিকে আদালতে কারণ দর্শানোর নির্দেশ

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইলের ইতনা ইউনিয়নের ধলাইতলা গ্রামে ধর্ষিতা কুমারিমাতার কোল থেকে জোরপূর্বক নবজাতককে কেড়ে নেয়ার ঘটনা জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় নড়াইলের লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদালত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ নবজাতকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ জারি করেছেন আদালত।

গত বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায়, নড়াইল বিজ্ঞ আমলী আদালত, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো.জাহিদুল আজাদ দৈনিক যশোর প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন এবং ১১ ডিসেম্বর ওসিকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আদালতের আদেশের কপি লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শফিকুল ইসলামের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। আ

দালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, দৈনিক যশোর পএিকায় শেষ পাতায় বুধবার ‘নবজাতককে কেড়ে নিল পাষন্ডরা,নড়াইলে সন্তান ফিরে পেতে কুমারী মায়ের আকুতি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি বিচারক মো.জাহিদুল আজাদের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগ আমলযোগ্য। আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট কোন ব্যক্তির অভিযোগ দায়েরের বাধ্যবাধকতা নেই।

আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ যে কোন সময় পুলিশ কর্মকর্তা জ্ঞাত হলেই তিনি ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫৬ ধারা মোতাবেক তদন্ত করিবেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ জ্ঞাত হওয়ার পরও তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীর নিকট হতে অভিযোগনামার প্রাপ্তির অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করা মূলত আইনকে ফাঁকি দেয়ার শামিল। তাঁর (ওসির) এরুপ অবজ্ঞা/অবহেলা কেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা বলে গণ্য হবে না। কেন তিনি আইনযোগ্য ঘটনা জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তৎ বিষয়ে আগামী ১১/১২/১৭ ই তারিখে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

একই সঙ্গে ওই তারিখে নিখোঁজ নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। জানা যায়, ২ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার ধলাইতলা গ্রামে জনৈক দিনমজুরের ১৯ বছরের কিশোরী কন্যা ধর্ষিতা নারী পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়ার একদিন পরেই নবজাতককে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও ভয়ে বিচার দাবিতে মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবারটি। নবজাতকের পিতৃপরিচয় ধামাচাপা দিতে ধর্ষকের প্রভাবশালী স্বজন একই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত আমান গাজীর ছেলে সোহাগ, স্থানীয় হাফিজুরসহ ৪/৫ জন নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কুমারী মাতার কোল থেকে তার সদ্য প্রসবকৃত পুত্র সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এর আগে গত প্রায় ৯ মাস আগে ওই নারীকে নিজ বাড়িতে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পার্শ্ববর্তী কুমারডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোস্তফা শেখের লম্পট ছেলে নয়ন শেখ (৩২) । এরপরও ওই ধর্ষক নয়ন শেখ ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মেয়েটিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। এরই একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং গত ১ ডিসেম্বর তার পিত্রালয়ের কুড়ে ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়।

ওই কুমারী মাতা তার শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে ও সুবিচারের দাবিতে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। নড়াইলের লোহাগড়া থানার ওসি মো.শফিকুল ইসলাম বিষয়টি জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

Comments Us On Facebook: