বেতাগীতে ডিগ্রী পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে…

কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম,বরগুনা।বেতাগী উপজেলায় ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষার কেন্দ্র না থাকায় পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসলেও কারো মাথা ব্যথা নেই।
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি ১৯৮৭ সালে ডিগ্রী কলেজে উন্নীত হওয়ার পর স্ব-কলেজে কেন্দ্রে হিসেবে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনের কারনে স্ব- উপজেলায় একাধিক ডিগ্রী কলেজ না থাকায় ২০০৫ সালে বামনা উপজেলায়, সেখান থেকে ২০০৬ -২০০৭ দুই বছর বরগুনা সরকারি কলেজ,২০০৮ সালে আবারো বামনার ফয়জুন নেছা মহিলা  ডিগ্রী কলেজে কেন্দ্র স্থানান্তরিত হওয়ায় এখনো সেই কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
২০১৬ সালের চলতি ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় বর্ষে ১৭৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।  একই সালের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা  আগামী ১১-১-২০১৮ ইংরেজি শুরু হওয়ার কথা  রয়েছে। এ উপজেলা থেকে বামনার দুরত্ব ১২ কিলোমিটার হলেও  বিষখালী নদী পার হয়ে বামনায় যেতে হয়। ওই কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী  মো: সালাউদ্দিন বাপ্পী বলেন, অথচ স্ব- উপজেলায় কেন্দ্র থাকলে ঘরের ভাত খেয়ে বাড়ীতে বসেই পরীক্ষা দেওয়া যেত।
পরীক্ষা কমিটির আহবায়ক সহকারি অধ্যাপক আব্দুল ওয়ালিদ মুঠোফোন বলেন, বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ট্রলারে করে বিষখালী নদী পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী  মোসা: শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, ‘সবচেয়ে কঠিন সংকটে পড়তে হয় মহিলাদের। ঝড়- তুফানে জামা-কাপড় ভিজে একদম সর্বনাশ হয়ে যায়। এমনকি পোশাক উদ্বার করেও পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।
একই বর্ষের পরীক্ষার্থী  মো: সুজন জানান, বামনায় যাতায়াতে অর্থ ও অনেক সময় অপচয় হয়। দুর্যোগের সময় সঠিক সময় পৌঁছনো যায়না। ওই সময় প্রায়শই পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিলম্ভে পৌছতে হয়। এবছরই  বর্ষার সময় ৮০ জন পরীক্ষার্থী আটকে থাকায় আধাঘন্টা পর গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে  হয়েছে।
বেতাগী সরকারি কলেজের  অধ্যক্ষ নুরুল আমিন জানান, তিনি যোগদানের পর ৬ মাস আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যে‘র ডিও লেটারসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রয়কের নিকট ওই কেন্দ্রের অনুকুলে বেতাগীতে একটি  ভ্যেনু পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগেও সংশ্লিস্টদের নিকট একই দাবি করা হয়।  কিন্ত অবস্থা যেই-সেই। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম দাবি করেন,  আগামী পরীক্ষার আগে এ উপজেলায় ডিগ্রী পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স পরীক্ষার একটি ভেন্যু স্থাপনের।

Comments Us On Facebook: