৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

অাব্দুল কালাম,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে মৌলভীবাজার পুরোপুরি পাকিস্থানী পাক হানাদারমুক্ত হয়। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করেছিল। দেশের প্রতিটি জেলা পাক হানাদার বাহীনির কাছ থেকে শত্রুমুক্ত হওয়ার চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম ভাবে শত্রুমুক্ত হয়েছিল অামাদের মৌলভীবাজার জেলা।

ডিসেম্বরের ২ তারিখ সন্ধ্যায় শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে হানাদার বাহিনীর ওপর মুক্তিবাহিনীর ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক সেনারা টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে। ৪টা ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরের নিকটবর্তী বড়টিলা নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ১২৭ সেনা শহীদ হন। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ৪নং হেড কোয়াটার এর ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার রানার নেতৃত্বে মৌলভীবাজারের পিটিআই (প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং) সেন্টারে গড়ে উঠে ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার।

এখানে নির্মিত ব্যাংকারে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষ ও মহিলাদের ধরে এনে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ চালানো হয়। যা আজও কালের এক প্রতিমুর্তির স্বাক্ষী হয়ে আছে। ৪নং সেক্টরের অধীনে সেক্টর কমান্ডার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চৌকস মেজর সি আর দত্ত’র নেতৃতে মৌলভীবাজারে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

৭ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী শেরপুরে অবস্থান নিলে মুক্তিবাহিনীও শেরপুরের দিকে অগ্রসর হলে পাক বাহিনী সেখান থেকেও পলায়ন করে সিলেটে চলে যায়। ফলে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি মুক্ত হয়।তবে ৮
ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি পাক বাহীনি হানাদারমুক্ত হলেও ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর ও ৬ ডিসেম্বরই রাজনগর উপজেলায় উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানি হানাদার
বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়তে শুরু করে। পাক সেনারা তখন সিলেটের দিকে পালাতে শুরু করে। পালানোর সময় তাদের এলোপাথাড়ি গুলিতে অনেক নিরীহ মানুষ শহীদ হন।

সিলেটে যাওয়ার পথে পাক বাহিনী শেরপুরে অবস্থান নিলে সেখান থেকেও তাদের বিতাড়িত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার অানসার অালী জানান, ৭ ডিসেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা নাস্তা করে যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তাদের সাথে ছিলেন, বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অাজিজুর রহমান, সাবেক প্রয়াত সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন অালী, সহ ৭ জনের একটি দল তখন তারা জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে মনু নদীর পাশ দিয়ে তখন চারদিক থেকে গ্রামের, হাটের অনেক লোক জড়ো হয় জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু , বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।

তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মৌলভীবাজারকে পাক হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়। হাজার হাজার মানুষ মুক্ত শহরে প্রবেশ করে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, এ বছর দিবসটি জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮.৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কার্যসূচী শুরু হবে।

আর এ দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে চাঁদনীঘাট এলাকায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ,স্মৃতিচারণ ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। বিকালে তথ্য অফিসের আয়োজনে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি হানাদারমুক্ত হয় এবং আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। এরপর থেকেই মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের মানুষ ৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করে আসছে।

Comments Us On Facebook: