আমাদের হাবিব ও রোবট সোফিয়া

নিচের ছবিটাতে দেখা যাচ্ছে ভিক্টোরিয়া পার্কে সামনে ১১/১২ বছরের একটি ছেলে চলন্ত বাসের মধ্যে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে বাসের সামনের লুকিং গ্লাস ঠিক করছে..যে এই কাজটি করছে তার নাম হাবিব (আসল নাম বলার ব্যাপারে তার নিষেধ আছে) বয়স আনুমানিক ১০/১১ বছর। পেশা- বাস কনট্রাক্টার। দৈনিক আয় ২০০টাকা। হাবিবের পেশাদারিত্ব অনুকরণীয়। সে সদরগাট টু কুড়িল রোডের একটা সিটিং সার্ভিস বাসের কনট্রাক্টার।। এই রোডে একেক ট্রিপে ১৫০/২০০জন যাত্রীর ভাড়া সে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তুলতে পারে। তার টাকা তুলার ধরন বলে দেয় এই কাজে সে অভিজ্ঞ।।

এটা অবাক হবার মত কোন ঘটনা না। আমাদের এই দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে এটা অতি সাধারন একটা বিষয়।। অনুভূতিহীন বাংলাদেশের মানুষের কাছে অতি গুরুতপূর্ণ কোন বিষয় যেমন কোন বিষয় না।। ঠিক তেমনি সামন্য তুচ্ছ বিষয় অতিশয় গুরুতপূর্ণ বিষয়।। ১১/১২ বছরের একটি শিশু শুধু বেচে থাকার জন্য…২০০ টাকার জন্য নিজের বাজি রেখে কাজ করে।। যদিও আমাদের দেশের আইনে শিশু শ্রম নিষিদ্ধ।। আর আমাদের সংবিধানে বলা আছে একজন অনাথ শিশুর অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষ,মৌলিক অধিকার।। রাষ্ট্রকে এই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

কিন্তু গরিব মানুষের জন্য এদেশে কোন আইন নাই।। নাই কোন সংবিধান।। বড় বড় কথা শুধু আমাদের মুখে আর কাগজে।আমরা ১০/১২ কোটি টাকা খরচ করে একটি রোবটকে এইদেশে নিয়ে আাসি.. যার আগমন উপলক্ষে এনবিআর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলেতে বিজ্ঞাপন দেয়।। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়ে উঠে সোফিয়াময়।। মিডিয়া ও টিভি চ্যানেল গুলো হুমড়ি খেয়ে পরে।। সোফিয়া ছাড়া যেন আমাদের জীবন ৩২আনা ব্যার্থ।। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারন জনগন সবাই সোফিয়া জন্য পাগল।। আমরা আজব জাতি।। আমাদের মত হাস্যকর জাতি পৃথিবীতে খুজে পাওয়া যাবে না।।

Saeed Khan

Comments Us On Facebook: