স্কুলছাত্রীকে চুল ধরে চাকার নিচে ফেলল চালক !

চালক না পাষণ্ড! অন্তত এই ঘটনায় সবাই ট্রাকচালককে এসব খারাপ বিশেষণ ছাপিয়ে ‘জানোয়ার’ বলছেন। কারণ, তার খামখেয়ালীতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মিনু। ঘটনাটি বুধবার আড়াইটার দিকে, মাগুরা সদর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে থাকা মিনুর চুল ধরে চলন্ত ট্রাক থেকে চালক টান দেন। এতে সে চাকার নিচে পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

মিনু মাগুরার রাঘবদাইড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও শালিখা উপজেলার সর্বসাংদা গ্রামের শহর আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মিনু সদর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। দুপুরে পরীক্ষা শেষে সহপাঠী ফাতেমার সঙ্গে সে স্কুল থেকে ফিরছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুর ট্রাকের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

বান্ধবী ফাতেমা, মিনুর দুলা ভাই ইউসুফ শেখসহ স্থানীয়রা জানান, বালুর ট্রাকের চালক তাদের অতিক্রম করার সময় হাত বাড়িয়ে মিনুর মাথার চুল ধরে টান দেন। এতে সে ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। চালক ট্রাকের গতিরোধ না করায় চাকায় পিষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই মিনু মারা যায়।

পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে ট্রাকটি (যশোর-ট-১২১৩) ধরে ফেলে। তবে চালক পালিয়ে গেছে।

মিনুর দুলাভাই ইউসুফ শেখ বলেন, ‘কামারপাড়া এলাকায় রাস্তার কাজ চলছে। ওই কাজের জন্য আবালপুর গ্রামের মিটুলের ট্রাকে করে সকাল থেকেই বালু বহন করা হচ্ছিল। সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই চালক একবার মিনুর পথ আগলে উত্ত্যক্ত করেছিল। আবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাথার চুল ধরে টান দেওয়ায় ট্রাকের নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।’

মিনুর পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাকচালকের শাস্তির দাবি জানালেও এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, মেয়েটির লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ট্রাকচালকের নাম এখনো জানা সম্ভব হয়নি। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ সত্য হলে চালকের নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

Comments Us On Facebook: