ঘরে খানি নাই হাওরে কোনো কাম নাই

অাব্দুল কালাম,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ২০ কিয়ার ক্ষেত করছিলাম পরপর ৩ বার অাগাম বন্যার পানি এসে তলিয়ে নিয়ে যায় অামাদের মাঠের সোনালী ফসল। অখন কিতা করমু কয়েক মাস ঋন করে পরিবারের চাহিদা মেটালাম। এখন পর্যন্ত ঋন পরিশোধ করতে পারছি না। ঋনের দায়ে দুঃখে মনে কয় বাড়িয়া ছাড়িয়া যাইতাম গি।
এখন ঘরে কোনো খানি নাই। হাওরে  কোনও কাম নাই ধান অইলে না হয় অন্যর জমিতে ধান কাটার মজুরি পাইলাম অনে, অখন ধান নাই তে কাজ ও পাইরাম না। হাওরে কাঁদা অার ঘাস ছাড়া অার কিচ্ছু নাই। ধনী গরিব গিরস্ত এক লাখান বিপদে পড়ছে ৬ ডিসেম্বর বুধবার সকালে এ প্রতিবেদকের সাথে অালাপকালে এভাবেই নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানালেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের উত্তর জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সাহিদ মিয়া।
দুর্ভল বাঁধ ভেঙ্গে অতিবৃষ্টি অার লাগাতার বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেঙ্গে ছিল শত শত ঘরবাড়ি অার এসব ঘরবাড়ি মেরামত ও সংস্কার তো দুরের কথা দুবেলা পেট ভরে ভাত খাওয়ার ভাগ্য জোটছে না তাদের। কোনো রকম মাথা গুজার টাই নিয়ে বেঁচে অাছেন কাইনজার হাওরের শত শত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার।
হাওরে বর্তমানে কোনো কাজ নেই, কৃষকের ঘরে কোনো খাদ্য নেই চরম অনিশ্চয়তা অার অাহাজারিতে দিন কাটছে ধনী-গরিব গিরস্তের। এদিকে প্রতিবেদক অাব্দুল কালামের সঙ্গে অালাপকালে জগন্নাথপুরের কাইনজার হাওরের এক চাষী সন্তোষ মালাকার বলেন, ভাই মহাবিপদে অাছি দশ কিয়ার ক্ষেত করিয়া মাত্র ১ কিয়ার কাঁচা ধান কাটিয়া অানছিলাম এখন ঘরে ধান নাই ঋনে গা ঢাকি গেছে এখন বড় দুর্ভোগের মাঝে অাছি ভাই।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের মাঝে যথাসাধ্য ত্রান বিতরন করেছি। বর্তমান সরকার হাওরের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। অাগামীতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে ত্রান বিতরন অব্যাহত রাখা হবে।
Comments Us On Facebook: