স্বপ্ন কি পূরন হবে  সাইফুলের

মো:হযরত আলী (লালমনিরহাট,প্রতিনিধি): ১৩ বছরের একটি ছেলে হাটে পান-সিগারেট বিক্রি করছে, লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলাধীন সীমান্ত বর্তী এলাকা দইখাওয়ার হাটে।  তাকে সাহায্য করার মতো পাশে কেউ নেই। এই বিকাল বেলায় যখন বাকি আট দশ টা  ছেলে ক্রিকেটের ব্যাট আর হোম ওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময় সাইফুল হাটে পান-সিগারেট বিক্রি করছে।

তার পান বিক্রির সাথে সাথে একটু আলাপিত করলাম। জেনে নিলাম সে কোন শ্রেনীতে পড়ে,  সাইফুল গোতামারী ডি,এন,সি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। ছাত্র হিসাবেও নাকি সে খুবই ভালো। অভাবের তাড়নায় লেখাপড়ার পাশাপাশি তাকে পরিশ্রম করে খেতে হয়। যে বসয়ে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া আর খেলাধুলা করে সময় কাটায়, সেই বয়সেই সাইফুলের ঘাড়ে সংসারের গুরুদায়িত্ব।
ভাবতেই কষ্ট হয় তাকে দেখে।

এমন হাজারও সাইফুল আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
তাদের খোঁজখবর নেবার কেউ নেই। তারা শিশু শ্রম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অর্থ উপার্জনে নানান পদ অবলম্বন করে তারা জীবন সংগ্রামে টিকে আছে ।

সাইফুল হাতীবান্ধা উপজেলার , গোঁতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া হাটের উত্তরে বাংলালিংক টাওয়ারের পার্শ্বে দিন মজুর নুরুল হকের ছেলে।
বাবা মায়ের অভাবী সংসার। বাবা অন্যের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করে। সাইফুল ও তার বড় ভাই দইখাওয়া হাটে আলাদা
আলাদাভাবে পান- সিগারেটের দোকান করে বাবার সংসারে সহোযোগিতা করে।  প্রতি হাটে সাইফুলের আয় হয় ৫০-১০০ টাকার
মতো।

বড় হয়ে সে কি হতে চায় বা তার স্বপ্ন কি এই কথা জানতে চাইলে সাইফুল বলে,
সে বড় হয়ে বাংলাদেশ বিজিবিতে চাকরী করার স্বপ্ন দেখে। এতো চাকরী থাকতে বিজিবি হতে চাও কেন ? জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আমরা গরীব মানুষ ভালো চাকরী নেবার টাকা কই পামু। তাই বিজিবির চাকরী করব। হয়ত
সাইফুল এটা জানেনা বিজিবির চাকরী নিতেও এখন টাকা লাগে।কারণ এখন চাকরি নিতে হলে তো অবশ্যই টাকা গুনতে হয়।

এখন আপনারাই বলুন ?
অভাবী সংসারের এই সাইফুলের বিজিবি হবার স্বপ্ন কি শুধু স্বপ্নই থাকবে ???
নাকি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সমাজ ও রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে ???
সাইফুল এর স্বপ্ন পূরনে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান করা হল।

Comments Us On Facebook: