ফ্যাশন ডিজাইনের নামে শিশুকাল থেকেই অশ্লীলতার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে!

নোংরা ফ্যাশনের নামে পোশাক পরিধানে অশ্লীলতার মাধ্যমে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে একদল মানুষ। শিশুকাল থেকেই শেখানো হচ্ছে অশ্লীলতা। বিদেশীদের অনুকরণে, বিদেশী বাচ্চাদের ছবি ব্যবহার করে এদেশের কমলমতি শিশুদেরকে এসব পোষাকের প্রতি আগ্রহী করা হচ্ছে। এভাবেই দেশের চিত্রটাই আজ পাল্টে গিয়েছে। ছেলে মেয়ে সবার পোষাকে আমুল পরিবর্তন ঘটেছে এরই মাঝে।

নতুন একটা পদ্ধতি ন্যারো পেন্ট পরা, মানে টাইট পোশাক, এটা পরে একদল পুরুষের বাড়তি ফ্যাশনের নামে যে হাল কোথাও প্রশ্রাব করার প্রয়োজন হলে বসে করতে পারে না, ঐ পেন্ট পরে বসতে গেলে উপুড় হয়ে পড়া লাগে, তাই দাঁড়াই করে, এতে পোশাকের ছিঁটকা এসে আবার পাঁয়ে, জুতায়, কিংবা পেন্টের উপরেই এসে পড়ে, এটা থেকে বাঁচতে কেউ আবার এ থেকে বাঁচতে এক পাঁ তুলে দেয়, আবার কেউ সুবিধার জন্য হাঁটু গেড়ে বসেও প্রশ্রাব করে, এতে কারো কারো প্রশ্রাব ক্লিয়ার ও হয় না, তাই কেউ কেউ একবারের প্রশ্রাব তিন ভাগে ভাগ করে করে।

এছাড়া যদি কোন কারণে বড়টা অর্থাৎ মল ত্যাগের প্রয়োজন হয়, তখন এটা তাড়াহুড়ো করে খুলতে গিয়ে কত জনেই গায়ে পেন্টে লাগিয়েছেন তার হিসেব নেই, এর থেকে বাঁচতে আরেকটি সুবিধা যোগ হলো ইংলিশ টয়লেটও টিস্যু, ওতে কি আর পরিপূর্ণতা আসে? যার ফলে অনেককেই নামাযের সময় ডাকলে বলতে শুনি কাপড়ে সমস্যা আছে, মানে ফ্যাশন হয়ে গেছে নাময পড়তে ভয়ের কারণ, আবার এমন ন্যারো পোশাক পরতে নাম পড়তে রুকুতে গেলে কখন উপুড় হয়ে সেজদায় পড়ে যায়, তারও ভয় থাকে, আবার এমন পেন্টগুলো বেশী দিনও টিকে না, নীচ দিয়ে দুটো ফুটো হয়ে যায় অতি তাড়াতাড়ি।

আজকাল কারো জামার কোন অংশ ছিঁড়ে গেলে কেউ একটি তালি লাগালে সেটাও ফ্যাশন হয়ে যায়, ফলে ঐ এলাকার ছেলেরা নিজেদের ভালো ভালো পেন্ট ছিঁড়ে তালি লাগাতে শুরু করে, আর মুচকি হাসেন প্রথম তালিওয়ালা, মনে মনে ভাবেন তিনিই বুঝি তালি ফ্যাশনের প্রতিষ্ঠাতা।
শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি, খাবার গ্রহনের মতো মলমুত্র সঠিক ভাবে ত্যাগ করাও একটি ইবাদত, যদি পোশাক আরেকটু ঢিলা হয়, তাহলে আমাদের ইবাদতের জন্য পোশাক কখনোই ইবাদতের জন্য ব্যরিয়ার হতে পারে না।

আজ কাল ধর্মীয় পোশাকের নামে জুব্বা বা পাঞ্জাবী পরিধানেরও অহংকার কিংবা অশ্লীলতা লোপ পায়, এর চাকচিক্ক এমন যেন বড় বড় লেবাস পরলেই সাধারন মানুষ তাকে বড় আলেম বা পরহেজগার মনে করে। অথচ রাসূল (সঃ) এর যুগে বড় লেবাসের বেশধারীদের দেখলেই সবাই ইহুদী হিসেবে চিনতেন, এবং তাদের সবাই নাছাল বলে ডাকতেন,(নাছাল মানে ছিল ‘লম্বা দাড়িওয়ালা ইহুদী’) অথচ আজকের যুগের মূর্খ মুসলমানরা নিজের ভিতরে ইসলামের বাতি না থাকায় বড় বড় লেবাস ধরেই আলেম বলে বাড়তি ইমশন চালিয়ে দেয়, এমন মূর্খ হলে রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর কিংবা যে কোন ইহুদী পাদ্রী দেখলেই মানুষ বড় আলেম বলে চালিয়ে দিতে পারেন, আজকাল ইসলামের প্রকাশ্য দুশমন নাস্তিকদেরকেও এক প্রকার দাঁড়ি পাঞ্জাবী পড়তে দেখা যায়, তাদের নামগুলোও ধর্মীয় দৃষ্টিতে সুন্দর।

এই ছাড়া রাসূল (সঃ) এর যুগে মক্কা বিজয়ের পরে একদল ইহুদী ইসলাম ধর্মকে বিকৃতি ও ক্ষমতা লাভের আসায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, এবং বড় বড় লেবাসী পোশাক ধারণ করে সবচেয়ে বড় আমলদারের বেশ ধারন করতো, তাদের বড় লেবাসের পাশাপাশি তাদের হাতে তাসবীহ্ পাগড়ীও ছিলো, এ নিয়ে আল্লাহ রাসূল (সঃ) কে সতর্ক করে ওহী প্রেরণ করে জানিয়ে দেন, নিশ্চই মক্কা বিজয়ের পরের ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের চেয়েও পূর্বের মুসলমানরা উত্তম, এরপর রাসূল সঃ সবার উদ্দেশ্যে বলতেন যারা বড় আমলদার লেবাস সেজে মসজিদের প্রবেশ করে এর মাঝে অনেক মোনাফেকও বিরাজমান, যা সাধারণরা চিনতে পারবে না।

পুরুষের জন্য লেবাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই টাকনুর উপর, দুই হাতের কনুই ঢেকে যায় এমন পর‌্যন্ত এবং নাভীর পর‌্যন্ত যেন হয় এমন পায়জামা লুঙ্গি বা চাদর পরিধানের কথা বলা হয়েছে, এ ছাড়া লালও হলুদ রঙ্গের পোশাক পরা নিষেধ, আর যাবতীয় পোশাক চাকচিক্ক পরিহার করে পরিস্কার বা পবিত্র পোশাক পরিধানই ইসলামী বিধান, অথচ আমরা করছি এর উল্টোটা।

নারীদের ওড়না আগে বুক পর‌্যন্ত ও মাথার উপরে ছিলো, এরপর গলায় ঝুলানো, বর্তমানে দেখা যায় ওড়নার প্রচলনই মনে হয় উঠে গেছে, বোরকা পরিধানের পদ্ধতি হয়ে গেছে বিশেষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রদর্শন করার মতো, দিন দিন যেন এমন বোরকা পরিধানকেই ধর্মীয় পদ্ধতি হিসেবেই চাপিয়ে দিচ্ছে, এতে একজন বিভৎস উলঙ্গ নারী থেকেও যেন মুসলিম পোশাকের নামে দেহকে আরো আকর্ষিত করতে বোরকা হিজাব পরিয়ে জন সাধারনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়, এমন পরিস্থিতে যে কোন ধর্মের নারীরাই নিজেদের ডিমান্ড শো করতে এমন পোশাক গুলোকেই বেহায়াপনার জন্য বেছে নিতে চাইবে।
নারী পোশাকের জন্য বিশেষ সতর্কতা হলো পাঁয়ের টাখনু পর‌্যন্ত, হাতের কবজি, এবং মাথার চুল পর‌্যন্ত যেন না দেখা যায়, আর শরীরের বিশেষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো যেন কোন ভাবেই প্রকাশ না পায়, এ ছাড়া পর্দা বা বোরকার ক্ষেত্রে বাড়িত আকর্শন এমন ভাবে পর্দা করা যেন পর পুরুষের নজরে না আসে।

ফ্যাশন ডিজাইনের নামে আজ যে সমস্ত পোশাক শিশুদের জন্য বের হচ্ছে, পরিধান করালে যুবতী ধরনের কিংবা অশ্লীলতা প্রকাশ পায়, এই ছাড়া শিশুদের পরানো হচ্ছে ভারি জিন্স পেন্টসহ বাজে স্বভাবের জামা, যা পরে অভ্যস্থ শিশুরা বড় হয়ে কোন এক দিন আর ধর্মীয় পোশাক পরতে চাইবে না, অথচ পিতামাতারা দাবী করেন, ছোট্ট বাচ্চা কোন সমস্যা হবে না।

আল্লাহ আমাদেরকে ধর্মীয় পোশাকের নামে এমন নোংরামী অশ্লীলতা ও উন্মাদনা ছড়ানোর থেকে হেফাজত করে সঠিক ইসলামী পোশাক পরে আমলের জিন্দেগী গ্রহণের তাওফীক দান করুক, আমীন।

লেখক- আবুল বয়ান হেলালী, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট

Comments Us On Facebook: